সোনারগাঁয়ে ইউপি নির্বাচন: ভোটের মাঠ কাঁপাতে আসছেন যেসব নেতারা

সান নারায়ণগঞ্জ

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী গণমাধ্যমে বলেছেন, চলতি বছরের মধ্যেই দেশের সকল স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। তার মধ্যে জুলাই মাসে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দফায় বছরের শেষের দিকে বাকি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে সোনারগাঁও উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির তরুণ প্রজন্মের যেসব নেতারা ভোটের মাঠ কাঁপাতে আসতে যাচ্ছেন, তাদেরকে নিয়ে এখনই শুরু হয়েছে নির্বাচনী আলোচনা। এদের মধ্যে দু’একজন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও বাকিদের কেউ এখনও নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও লোকমুখে ও চায়ের দোকানে জমে ওঠেছে কারা হতে যাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী।

স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের লক্ষ্যে মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে জানানি দিয়েছেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয়দের সঙ্গে ইতিমধ্যে বৈঠক শুরু করে দিয়েছেন। যদিও এই ইউনিয়নে বিএনপির কঠিন সময়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ‍উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পারভেজ সাজ্জাদ চপল।

বারদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে এখনই ঘোষণা না দিলেও ইউনিয়নবাসীর মাঝে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আছেন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম হোসেন দিপু। তিনি স্থানীয় এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের রাজনৈতিক ব্যক্তিগত সহকারী। এর আগে ইউনিয়নে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন সেলিম হোসেন দিপু। স্থানীয়দের মাঝে সেলিম হোসেন দিপুর নাম আলোচনায়।

বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির একাধিক নেতাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলাম সরকার। তিনি এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা কিংবা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু না করলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তিনি আলোচনায় আছেন। এখানে আলোচনায় আছেন সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে ইয়াসিন নোবেল। তিনিও নির্বাচনী আলোচনায় আছেন।

সোনারগাঁয়ের সর্ববৃহত্তর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা সনমান্দি ইউনিয়ন। এখানে তুমুল আলোচনায় আছেন বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ। তিনি এই ইউনিয়নের মরহুম চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনের পুত্র। বিল্লাল হোসেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। মাসুম বিল্লাহ স্থানীয় এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের মেয়ে জামাতা। তবে মাসুম বিল্লাহ নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সনমান্দি ইউনিয়নের জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। যে কারনে আগামী নির্বাচনে হেভিওয়েট চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাসুম বিল্লাহর নাম সবার আগে।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজনীতির কঠিন সময়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান। আগামী নির্বাচনে এই ইউনিয়নে সবার আগে তিনিই আছেন আলোচনায়। সাদিপুর ইউনিয়নেও বিএনপির হয়ে নির্বাচন করেছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান ভুঁইয়া মাসুম। এবারও তিনি আছেন আলোচনায়। তার সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে আছেন সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য হাজী সেলিম সরকার।

এদিকে সেই করোনাকাল থেকে শুরু করে অধ্যাবধি পিরোজপুর ইউনিয়নের জনগণের পাশে নানাভাবে সাহায্য সহযোগীতা করে আলোচনায় আছেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সদস্য মাসুম রানা। আলোচনার শীর্ষস্থানে আছেন বিএনপির এই নেতা। যদিও কেউ কেউ তাকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের স্বপ্নও বুনছেন। কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলোচনায় আছেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম হক রুমী। যদিও তিনি এখন পর্যন্ত নির্বাচনের কোনো ঘোষণা কিংবা আভাসও দেননি। তবে স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীদের মুখে তিনি প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানাগেছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এবার আলোচনায় উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ ভূঁইয়া। যদিও তিনি এখনও নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি। তবে এই ইউনিয়নেও বিএনপির একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনায় আছেন। রাজপথের সক্রিয় ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে অন্যতম আশরাফ ভূঁইয়াকে চাচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদে আলোচনায় আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি এর আগে নির্বাচন করেছিলেন।