বিএনপির বহিষ্কৃতদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সাখাওয়াত, নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ

সান নারায়ণগঞ্জ

গত ২২ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশনে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নারায়ণগঞ্জ সিটিতে প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি নিয়োগ পাওয়ার পর তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কিন্তু এদের সঙ্গে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরাও দলে দলে সাখাওয়াতকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং সাখাওয়াতও বহিষ্কৃত নেতাদের হাত থেকে ফুলের শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে   কোনো ধরণের কুণ্ঠবোধ করছেন না। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা সাখাওয়াতের ‍উপর চটেছেন। তাদের মতে- মাত্র কদিন আগেও যারা দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ধানের শীষকে পরাজিত করতে ফুটবল মার্কার পক্ষে কাজ করে বহিষ্কৃত হয়েছেন তাদেরকে সাখাওয়াত আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন।

নেতাকর্মীরা আরো বলছেন, গেল ১২ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনে ফুটবল মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন। গিয়াসের সঙ্গে সাখাওয়াতের পূর্বে থেকেই সখ্যতা রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গিয়াসকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। গিয়াসের পক্ষ নিয়ে ফুটবল প্রতীকের পক্ষে গিয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির অন্তত ৩০জন নেতাকর্মী বহিষ্কার হয়েছেন।

জানাগেছে, ফুটবল মার্কার পক্ষে কাজ করায় গেল ২৯ জানুয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জি এম সাদরিল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর, থানা বিএনপির সদস্য শামীম আহম্মেদ ঢালি, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী মুন্সী, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম, ৩নং সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ভূইয়া, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুজ্জামান মন্টু, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিল্লুর রহমান, ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামাল প্রধান, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামান মির্জা, সেনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও জিয়াউল ইসলাম চয়ন, সদস্য খন্দকার আবু জাফর, সোনারগাঁও পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি পনির হোসেন এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিককে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়।

বহিষ্কৃত এসব নেতাদের মধ্যে জি এম সাদরিল, মোঃ আবুল হোসেন, কামরুজ্জামান শরিফ, আলী আকবর, শামীম আহম্মেদ ঢালি, আইয়ুব আলী মুন্সী, মাসুদ করিম, শহিদুল ইসলাম ভূইয়া, মাসুদুজ্জামান মন্টু, মোঃ জামাল প্রধান, জামান মির্জা সহ ফুটবলের পক্ষে কাজ ধানের শীষ প্রতীকের বিরোধীতাকারী যুবদল নেতা আকাশ, কৃষকদল নেতা তৈয়ম হোসেন, সুজন, আকবর আলীর ছেলে সহ ফুটবলের পক্ষে গিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জে যেসব নেতাকর্মীরা কাজ করেছিলো তাদের অধিকাংশ নেতাকর্মীদের দেখা গেছে সাখাওয়াতকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে। বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা সহজভাবে নিতে পারেননি। এটি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।

ষড়যন্ত্রের আভাস হিসেবে নেতাকর্মীরা এও বলছেন- নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির মনোনিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে দেখা গেলেও সাখাওয়াতকে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মান্নানের পক্ষে একদিনও মাঠে দেখা যায়নি।