কার ভাগ্যে জেলা পরিষদের নেতৃত্ব: প্রশাসক নাকি চেয়ারম্যান?
সান নারায়ণগঞ্জ
ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এবার নতুন করে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ। তবে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে নাকি সরাসরি নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন- সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন। তবে দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশনে দলীয় নেতাদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়ার পর আলোচনায় এসছে জেলা পরিষদ। তবে প্রশাসক কিংবা চেয়ারম্যান পদে কে পেতে পারে বিএনপির সমর্থন সেটাও দেখার অপেক্ষায় নেই স্থানীয়রা। এরি মাঝে প্রশাসক পদে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন নিজ নিজ পছন্দের নেতাদেরকে নিয়ে।
এদিকে তথ্য সূত্র বলছে, জেলা পরিষদের ভোটার মুলত স্থানীয় নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। সেই হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনের পুর্বে জেলা পরিষদের নির্বাচন দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারন জেলার সিটি কর্পোরেশন সহ প্রায় সকল উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় নির্বাচন হয়নি। সুতরাং জেলা পরিষদে তার আগ পর্যন্ত প্রশাসক বসানোর সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
জানাগেছে, জেলা পরিষদে প্রশাসক পদে আলোচনায় আছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহামুদুর রহমান সুমন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহামুদ, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি ও নাসির উদ্দীন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, শরীফ আহমেদ টুটুল, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর বিএনপি নেতা শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের নাম।
এদের মধ্যে মাসুদুজ্জামান মাসুদ, মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও মাসুকুল ইসলাম রাজীব নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সামনের নির্বাচনে মেয়র পদে আলোচনায় আছেন নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। জেলা পরিষদে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনায় আছেন কাজী মনির, সুমন ও মামুন মাহামুদের নাম। তবে উল্লেখিত নেতাদের অনেকেই জেলা পরিষদের প্রশাসক পদটি ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টায় কেন্দ্রীয়ভাবে লবিং শুরু করে দিয়েছেন।
সূত্রমতে, ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সমর্থিত প্রার্থী চন্দন শীল বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর অকার্যকর হয়ে পড়ে জেলা পরিষদের সকল কার্যক্রম। ওই বছরের ১৮ আগস্ট দেশের ৬১টি জেলা পরিষদকে শূণ্য ঘোষণা করে প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তবর্তীকালীন সরকার।
নারায়ণগঞ্জে জেলা পরিষদের গত নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ভোট গ্রহণ।এর আগে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চন্দন শীল বিনা ভোটে নির্বাচিত হোন। এ ছাড়া ৪নং ওয়ার্ড থেকে মো. আলাউদ্দিন ও ৫নং ওয়ার্ড আনছার আলী একক প্রার্থী হওয়ায় তারাও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হোন।
এ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ড (নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন) সদস্য পদে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের বৈদ্যুতিক পাখা সমান সংখ্যক ১৫টি করে ভোট পান। পরে লটারীর মাধ্যমে মজিবুর রহমান নির্বাচিত হোন।
জেলা পরিষদের ২নং ওয়ার্ড (নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা-বন্দর উপজেলা) সাধারণ সদস্য পদে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম আহম্মেদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনকে পরাজিত করেন।
জেলা পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড (সোনারগাঁও) সাধারণ সদস্য পদে বিশাল ব্যবধানে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও সোনারগাঁ বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুমকে পরাজিত করে বিজয়ী হোন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম ইকবাল।
এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে (১নং ওয়ার্ড) জেলা পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত সদস্য ও জেলা যুব মহিলা লীগের আহবায়ক সাদিয়া আফরিন এবং (২নং ওয়ার্ড) জেলা পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত সদস্য ও রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা সীমা রানী পাল শীলা নির্বাচিত হোন।
