সোনারগাঁয়ে গিয়াসের একমাত্র ভরসা বহিষ্কৃত বিএনপির ৪ নেতা!

সান নারায়ণগঞ্জ

৫ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের একটি উঠান বৈঠকে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন দাবি করেছেন সোনারগাঁয়ে তার বিরাট অবস্থান। সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা নাকি তার পক্ষে কাজ করছেন। এর আগের দিন ৪ ফেব্রুয়ারী বুধবার গিয়াসের নিজ এলাকা সিদ্ধিরগঞ্জের ৫নং ওয়ার্ডে কয়েক হাজার জনতা নিয়ে রীতিমত শোডাউন করে গেছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। ওইদিন গিয়াস তার নিজ এলাকার অবস্থান টের পেয়েছেন।

এরপর থেকে নিজ এলাকার লোকজনকে ম্যানেজ করতে হুমকি ধমকি ভয়ভীতি সহ নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। একই সঙ্গে সোনারগাঁয়ের মানুষ তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে বলে ধুয়া তুলছেন সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষের মাঝে। কিন্তু কার্যত সোনারগাঁয়ে গিয়াসের অবস্থান আরো করুণ ও নড়বড়ে। সার্বিকভাবে পরাজিত হলেও নিজের ইজ্জত বাঁচাতে অন্তত নিজ ভোট কেন্দ্র কিংবা নিজ ওয়ার্ডে পাস করাটা গিয়াসের জন্য জরুরী। আর সে কারনেই নিজ এলাকার দিকে জোর দিচ্ছেন বেশি। কিন্তু তার আগেই গিয়াসের নিজ এলাকার মানুষকে বুকে টেনে নিয়েছেন মান্নান।

ওদিকে সোনারগাঁয়ের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোনারগাঁয়ে গিয়াসের ফুটবল প্রতীকের তেমন একটা অবস্থান নেই। সোনারগাঁয়ের বিএনপির নেতাকর্মীরাও গিয়াসের পাশে নেই। শুরু থেকেই গিয়াসের পাশে ছিলেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, জিয়াউল ইসলাম চয়ন, সোনারগাঁও পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম নয়ন, সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন।

এদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম নয়ন বাদে বাকি সবাইকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। বজলুর রহমান অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তিনি কারাগারে থাকাবস্থায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হোন। সাদ্দাম হোসেন বহিষ্কৃত হলেও তাকে প্রকাশ্যে ফুটবলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

এমন অবস্থায় সোনারগাঁয়ে গিয়াসের জন্য একমাত্র বর্তমান ভরসা স্বপন, চয়ন, আশরাফ প্রধান ও কামাল হোসেন। স্থানীয় ভোটারদের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু সেটা নির্বাচনেই প্রমাণ মিলবে। তবে অনেকের দাবি এই চার নেতার উপর ভর করে সোনারগাঁয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী গিয়াস ভোট পাবেন না। যেখানে উপরোক্ত নেতাদের পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতাকর্মী মান্নানের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় কাজ করছেন। সুতরাং সোনারগাঁয়ে গিয়াসের অবস্থান একেবারে নড়বড়ে। সোনারগাঁয়ের ভোটে জয়তো দূরের কথা লড়াইয়ের দ্বারে কাছেও পৌছাতে পারবেনা মান্নানের সঙ্গে- এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।