সান নারায়ণগঞ্জ
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ফতুল্লা থানা কৃষক দলের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে অসহায় ও দুস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়।
১১ জানুয়ারী বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানার পশ্চিম মাসদাইর পাচতলা মোড় এলাকায় ফতুল্লা থানা কৃষকদলের উদ্যোগে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং অসহায়-দুস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুফতি মনির হোসেন কাশেমী।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বারী ভূইয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহামুদুল হক আলমগীর, নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান।
রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, এ দেশের মানুষের আস্থার জায়গা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। আপনারা কারো কথায় কান দিবেন না। মুফতি মনির হোসেন কাশেমী ২০১৮ সালে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গডফাদার শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছিলেন। তখনতো কেউ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে এগিয়ে আসেন নি। তখন বিএনপি থেকে মনোয়ন নিয়ে মনির হোসেন কাশেমী ধানের শীষের প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এজন্য তাকে চার বছর জেল খাটতে হয়েছিলো।নামাজের জন্য ওজু করার পানিটি পর্যন্ত তাকে ঠিক মতো হতোনা। সেই নির্যাতিত নেতা মনির হোসেন কাশেমী কে জিয়া পরিবার আপনার, আমার,আমাদের জন্য পাঠিয়েছে। আমরা তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তারেক রহমান কে উপহার দিবো ইনশাআল্লাহ।
বারী ভূইয়া বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী উপাধি পেয়েছিলেন। বহু প্রলোভন পেয়েও এরশাদ এবং হাসিনার সাথে আপোষ করেন নি। মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। আমরা যারা বিএনপি করি তারা কখনোই মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথার বাইরে যাবোনা। আর যারা তার কথার বাইরে যায় তাদের কে বুজতে হবে তারা কারা। আমরা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নির্বাচনে মনির হোসেন কাশেমী কে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবো।
শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন নি। যখন যতোবার গণতন্ত্র বিপন্ন হয়োছিলো ততোবারই বেগম খালোদা জিয়ার নেতৃত্বে গনতন্ত্র পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে । নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেছি,সংগ্রাম করেছি।এই আন্দোলন সংগ্রাম করতো গিয়ে আমাদের বহু সহকর্মী গুম হয়েছে,প্রান হারিয়েছে, পঙ্গুত্ব বরন করতে হয়েছে। আমিও গুলি খেয়েছি,দুইবার গুম হয়েছি, আল্লাহর রহমমতে আমি আজো বেচেঁ আছি। সেই নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনে মওলানা মুফতি মনির হোসেন কাশেমী কে মনোনীত করেছেন। একাধিক প্রার্থী প্রায় তাদের প্ররাচনায় বলেন নারায়নগঞ্জ -৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই। যারা এ কথা বলে তারা জনগনের সাথে প্রতারনা করে আসছে। তারেক জিয়া, জিয়া পরিবার, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকেই মনির হোসেন কাশেমীকে মনোনীত করেছেন। ২০১৮ সালে সে ধানের শীষের প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এবার ও তাকে বিএনপি মনোনীত জোট থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। আইনি জটিলতার কারনে ধানের শীষের প্রতিকের পরিবর্তে তাকে খেজুর গাছ নিয়ে লড়তে হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতী মনির হোসেন কাশেমী বলেন, আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়া যে পরিমান নির্যাতন সহ্য করে গেছেন,ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আমি মনে করি সে এই ত্যাগের জন্য তিনি আন্তঃজার্তিক নোবেল পুরুস্কারের দাবীদার। দল থেকে আওয়াজ তুলুন তার পুরুস্কারের বিষয়ে। এই নারায়নগঞ্জ থেকে তার জন্য আওয়াজ তুলুন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে খেজুর গাছে যদি সিল মারেন তাহলে তা ধানের শীষ পাবে, ধানের শীষ পলে আমি পাবো,আমি পেলে তারেক জিয়া পাবে। তারেক জিয়া পেলে বিএনপি সরকার গঠন করবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হবে। তাই আগামী নির্বাচনে খেজুর গাছ মার্কায় ভোট দিবেন।
ফতুল্লা থানা কৃষক দলের আহবায়ক জুয়েল আরমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সুমন আহম্মেদের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন এনায়েত নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহিুরুল ইসলাম চৌধুরী, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাকির হোসেন রবিন, ফতুল্লা থানা শ্রমিক দলের আহবায়ক শাহ আলম পাটোয়ারী, সদস্য সচিব আল আমিন, ফতুল্লা থানা ওলামা দলের সভাপতি জিলানী ফকির,ফতুল্লা থানা তাতি দলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার, ফতুল্লা থানা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ ইব্রাহিম, যুগ্ম আহবায়ক মোসলেম উদ্দিন মুসা প্রমূখ।


