সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করার লক্ষ্যে পর্দার অন্তরালে কাজ করছেন বিএনপিরই বেশকজন শীর্ষ নেতা। সূত্র বলছে, ষড়যন্ত্রকারীরা দুটি ভাগে ভাগ হয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে কাজ করবে। একটি পক্ষ সরাসরি ধানের শীষের বিরোধীতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে থাকবে, আরেকটি পক্ষ নিজেদের পদ পদবী টিকিয়ে রাখতে ধানের শীষ পক্ষে কাজ করার অভিনয় করবেন, কিন্তু কার্যত তারা ভেতরগতভাবে ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করতেই কাজ করবেন। ষড়যন্ত্রকারীদের এমন পরিকল্পনা অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামার সঙ্গে সঙ্গে ধানের শীষের বিরুদ্ধে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামবেন তারা।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, নারাযণগঞ্জ-৩ আসনে বিগত ৩রা নভেম্বর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানকে প্রাথমিকভাবে মনোনিত ঘোষণার পর থেকে একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু হয় এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে দফায় দফায় মানববন্ধন, মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির অন্যান্য মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুগামী নেতাকর্মীরা।
সেই ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায় যখন মনোনয়ন প্রত্যাশি ৭ জন নেতা একজোট হয়ে একটি বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশিত হয় নেতাকর্মীদের কাছে। মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহামুদ, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, কেন্দ্রীয় যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এসএম ওয়ালিউর রহমান আপেল একজোট হয়ে মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে বিএনপির মহাসচিবের মাধ্যমে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাবর দরখাস্ত দাখিল করেন। এরপরেও থেমে থাকেনি আন্দোলন।
সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর এই আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকায় আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম ঘোষণা করা হয়। বিএনপির প্রার্থী মান্নান মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রেজাউল করিম, গিয়াসউদ্দীন ও মামুন মাহামুদ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং গিয়াস ও রেজাউল করিম মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। দাখিলের পর গিয়াসউদ্দীনকে বহিষ্কার করে দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। ৩রা জানুয়ারী মান্নান, গিয়াসের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা ও রেজাউল করিমের মনোনয়ন বাতিল করে জেলা রিটার্নিং অফিসার। এরি মাঝে রেজাউল করিম মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন এবং ১৩ জানুয়ারী তার মনোনয়ন ফিরে পান। ওদিকে গিয়াসউদ্দীন তার মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে উল্টো নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। এই আপিল শুনানি আগামী ১৯ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে। কর্মীরা বলছেন, এটা অনেকটা ল্যাং মারার রাজনীতি করছেন গিয়াস।
নেতাকর্মীরা আরও বলছেন, মান্নান মনোনয়ন পাবার সঙ্গে সঙ্গে মামুন মাহামুদ, রেজাউল করিম ও গিয়াসের বাসায় যান। নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে থাকতে তাদের সহযোগীতা কামনা করেন। কিন্তু তারা উল্টো মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে দেন। চূড়ান্ত ঘোষণার পরেও গিয়াস ও মামুন অনুগামী নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে নামছেন না। মামুন মাহামুদ মুখে ধানের শীষের পক্ষে থাকার ঘোষণা দিলেও তার অনুগামী নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন না। গিয়াস অনুগামী সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন সরাসরি ধানের শীষের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আল মুজাহিদ মল্লিকের বাসায় গিয়েছেন মান্নান। মল্লিকের ভুমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।
এমন পরিস্থিতিতে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বহু নেতাকর্মীরা ধানের শীষের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। রেজাউল করিম ভোটের মাঠে ফেরায় নতুন করে তারাও চাঙ্গা হওয়ার চেষ্টা করছেন। নেতাকর্মীদের প্রশ্ন- মামুন মাহামুদ ও আল মুজাহিদ মল্লিক কি পদ বাঁচাতে ও বহিষ্কার ঠেকাতে ধানের শীষের পক্ষে থাকার অভিনয় করছেন? তারা কি সেই ৭ জনের ঐক্য ভেঙ্গে ধানের শীষের পক্ষে প্রকৃতপক্ষে কাজ করবেন নাকি ধানের শীষের প্রার্থীর সঙ্গে মিশে গিয়ে ধানের শীষকে পরাজিত করতে কাজ করবেন? সেই ৭ জন থেকে যারা ধানের শীষের পক্ষে থাকার কথা বলছেন তাদের ভুমিকা নিয়েও যেমন নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ঠিক তেমনি তারা ধানের শীষের পক্ষে শেষ পর্যন্ত কাজ করবেন কিনা সেটা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন নেতাকর্মীদের মনে।


