না’গঞ্জের ৫টি আসনে ৪০ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, বাতিল ১৭ জনের প্রার্থীতা

ডেস্ক রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ৫৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৩৭টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য, ঋণখেলাপি ও বকেয়া বিলের কারণে ১৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বকেয়া বিল ও আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় ৪জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিকেলে এদের ৪জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

৩ জানুয়ারী শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এসব তথ্য জানান।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ দুলালের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় এবং মনিরুজ্জামান চন্দন (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি)-এর হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু (বিএনপি), আনোয়ার হোসেন মোল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), মো. ইমদাদুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), রেহান আফজাল (বাংলাদেশ ইনসানিয়াত বিপ্লব), ওয়াসিম উদ্দিন (গণঅধিকার পরিষদ) এবং আব্দুল কাইয়ুম শিকদার (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ, ৩ জনের স্থগিত এবং ৪ জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে আবু হানিফ হৃদয় (বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি) ঋণখেলাপি হওয়ায়, মিনহাজুর রহমান (স্বতন্ত্র) ও আব্দুল আউয়াল (স্বতন্ত্র)-এর ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় এবং ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহর হলফনামার তথ্য সঠিক না থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এছাড়া আয়কর বকেয়া থাকায় মো. ইলিয়াস মোল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), আতাউর রহমান খান আঙ্গুর (স্বতন্ত্র) এবং মো. হাফিজুল ইসলাম (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি)-এর মনোনয়নপত্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন নজরুল ইসলাম আজাদ (বিএনপি), আবুল কালাম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) ও কামরুল মিয়া (গণঅধিকার পরিষদ)। তবে বিকেলে আঙ্গুর, ইলিয়াস আলী ও হাফিজুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিম (স্বতন্ত্র)-এর হলফনামায় তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— আজহারুল ইসলাম মান্নান (বিএনপি), গোলাম মসীহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী (গণঅধিকার পরিষদ), আতিকুর রহমান মুন্সী (বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন), মুহা. শাহাজান (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), আব্দুল করিম মুন্সী (জনতার দল), ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), আরিফুল ইসলাম (আমার বাংলাদেশ পার্টি), মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র) এবং অঞ্জন দাশ (গণসংহতি আন্দোলন)।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ, ৫ জনের বাতিল করা হয়েছে। অসম্পূর্ণ হলফনামার কারণে আরিফ ভূঁইয়া (গণঅধিকার পরিষদ) ও ইকবাল হোসেন (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি), ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় ফাতেমা মনির (স্বতন্ত্র), তিতাস গ্যাসের বিল বকেয়া থাকায় ছালাউদ্দিন খোকা (জাতীয় পার্টি) এবং মো. সেলিম আহমেদ (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি)-এর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

বৈধ প্রার্থীরা হলেন— শাহ আলম (স্বতন্ত্র), মো. ইলিয়াস আহাম্মেদ (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), সেলিম মাহমুদ (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), আনোয়ার হোসেন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), ইসমাঈল হোসেন কাউছার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), আব্দুল্লাহ আল আমিন (এনসিপি), মনির হোসাইন কাশেমী (জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশ), মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র), সুলায়মান দেওয়ান (বাংলাদেশ জাসদ), মোহাম্মদ আলী (বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি)।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মাকসুদ হোসেন (স্বতন্ত্র) হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায়, দলীয় মনোনয়ন না থাকায় আবু জাফর আহমদ বাবুল ও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং হলফনামায় তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় নাহিদ হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ)-এর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— আবুল কালাম (বিএনপি), এবিএম সিরাজুল ইসলাম মামুন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), আবু নাঈম খান বিপ্লব (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), মাওলানা মাসুম বিল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা (মুক্তিজোট), সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী (ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ), মন্টু চন্দ্র ঘোষ (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি), তরিকুল ইসলাম (গণসংহতি আন্দোলন)।

ডিসি রায়হান কবির আরও জানান, “প্রার্থীদের উপস্থিতিতেই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। কারও মনোনয়নপত্র বাতিল হলে তার কারণও প্রকাশ্যে জানানো হবে।” তিনি বলেন, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন এবং আপিলের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তির পর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ৯৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও জমা পড়ে ৫৭টি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র: যুগের নারায়ণগঞ্জ