সান নারায়ণগঞ্জ
নানা সমীকরণ ও নানা জল্পনা কল্পনা শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সহ ১৭টি পদের মধ্যে ১৬টি পদেই বিজয় লাভ করেছে বিএনপির জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্যানেল থেকে কেউ জয়ী হতে না পারলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সমর্থিত প্যানেল থেকে ১জন কার্যকরী সদস্য প্রার্থী বিজয় লাভ করেছেন।
২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার ভোট গননা শেষে রাত সাড়ে ১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল বারী ভুঁইয়া এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে তিনটি প্যানেলের অংশগ্রহণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। মোট ১ হাজার ১’শ ৭৫টি ভোটের মধ্যে ১ হাজার ৫৩ জন আইনজীবী তাদের ভোট প্রদান করেন।
নির্বাচনে বিএনপি প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী সরকার হুমায়ুন কবির ৬০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হোন। তার প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফিজ মোল্লা ৩০৬ ভোট এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম খান রেজা ১৪১ ভোট পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ার প্রধান ৭১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম গালিব ১৮৬ ভোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাঈন উদ্দীন মিয়া ১২৮ ভোট পেয়েছেন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে বিএনপির প্রার্থী কাজী আব্দুর গাফফার ৬৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জাহাঙ্গীর দেওয়ান পেয়েছেন ১৫৭ ভোট ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সামসুজ্জামান খান খোকা পেয়েছেন ১৪৯ ভোট। সহ-সভাপতি পদে বিএনপির প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন ৫৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ২৬১ ভোট, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৩৩ ভোট ও বিএনপির বিদ্রোহী প্যানেলের প্রার্থী আনিসুর রহমান মোল্লা ৩৯ ভোট পেয়েছেন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির প্রার্থী একেএম ওমর ফারুক নয়ন ৬৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল আমিন সবুজ ২১২ ভোট ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মোমেন ১২৪ ভোট পেয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে বিএনপির প্রার্থী শাহাজাদা দেওয়ান ৭৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আফজাল হোসেন ১৩২ ভোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইস্রাফিল পেয়েছেন ১২৯ ভোট। আপ্যায়ণ সম্পাদক পদে মাঈন উদ্দীন রেজা ৭৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নিজাম উদ্দীন ১৫০ ভোট ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শাহআলম শামীম ৫৫ ভোট পেয়েছেন।
লাইব্রেরী সম্পাদক পদে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান ৫৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গোলাম সারোয়ার ৩০১ ভোট ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলী আজ্জম ১২১ ভোট পেয়েছেন। ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম ৬৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইমরান হোসেন ২৫৫ ভোট ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহীদ সরোয়ার পেয়েছেন ১০৪ ভোট। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার জাহান ৫৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নার্গিস পারভীন ২৯৬ ভোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মজিবুর রহমান ১৪৩ ভোট পেয়েছেন। সমাজ সেবা সম্পাদক পদে বিএনপির প্রার্থী রাজিব মন্ডল ৬০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরে ই আলম ২৪৭ ভোট ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শাহনাজ পারভীন হিরা ১৬০ ভোট পেয়েছেন। আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদে বিএনপির প্রার্থী মামুন মাহামুদ মিয়া ৫৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমান ২৬৯ ভোট ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মনি গাঙ্গুলী ১৫৫ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়াও ৫টি কার্যকরী সদস্য পদে বিএনপি প্যানেলের প্রার্থী দেওয়ান আশরাফুল ইসলাম ৭৩৪ ভোট পেয়ে প্রথম, ফাতেমা আক্তার সুইটি ৬৯৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়, আবু রায়হান ৬৯৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং তেহসিন হাসান দিপু ৫৭৪ ভোট পেয়ে চতুর্থ হোন। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্যানেলের একমাত্র প্রার্থী আফরোজা জাহান ৫২৩ ভোট পেয়ে ৫ম হয়েছে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়াও জামায়াতের প্যানেল থেকে সদস্য পদে তাওফিকুল ইসলাম দিপু ৩৯৩ ভোট, রাকিবুল হাসান ২৮১ ভোট, গোলাম মোস্তফা ২৫৪ ভোট, সাইফুল ইসলাম ১৯৪ ভোট এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্যানেলের আনওয়ারুল আজিম চৌধুরী ১৩৮ ভোট ও আব্দুর রব ৭২ ভোট পেয়ে অনির্বাচিত হয়েছেন। সদস্য পদে বিএনপি প্যানেল থেকে একমাত্র প্রার্থী আনিসুর রহমান ৪১৭ ভোট পেলেও নির্বাচিত হতে পারেননি।